ইয়াবা লুটের ঘটনায় সাতকানিয়া থানার এসআই মাহবুবু, কনস্টেবল ফয়েজ ও মহসিন প্রত্যাহার
ট্রাক থামিয়ে তা থেকে ৩০ হাজার ইয়াবা লুট করার ঘটনায় সাতকানিয়া থানার একজন এসআই এবং দুইজন কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাসুদ আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ‘প্রশাসনিক কারণে’ তাঁদের প্রত্যাহার করা হয়।
প্রত্যাহার হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই এসএম মাহবুবুল ইসলাম এবং কনস্টেবল ফয়েজ আহমদ ও গাজী মো. মহসিন।
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম প্রত্যাহারাদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৪ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে লোহাগাড়া উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের এম চর হাট সংলগ্ন একটি সড়কের নির্জণ স্থানে একটি ট্রাক থামানোর পর কথিত সোর্স রবিন ও মোমেনের মাধ্যমে থানার কনস্টেবল ফয়েজ আহমদ ও গাজী মোহাম্মদ মহসিন সামনের সিটে বসে ট্রাকটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেন। ট্রাকটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো—ড—১২—৭৫৩৮। একইদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে তারা দুজনেই কথিত সোর্স রবিন ও মোমেনের মাধ্যমে ট্রাকটি সাতকানিয়া উপজেলার কেরানিহাট রেলক্রসিং সংলগ্ন এলপিজি স্টেশনে আনার পর গাড়ির গোপন জায়গায় রাখা ৩০ হাজার ইয়াবা নিজেদের হস্তগত করেন।
দুই কনস্টেবল ও তাদের কথিত সোর্স ট্রাকটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার পুরো কার্যক্রম তদারকি করেন থানার উপ—পরিদর্শক (এসআই) এসএম মাহবুবুল ইসলাম। ওই সময় তিনি সঙ্গে করে থানার কম্পিউটার অপারেটর ও কনস্টেবল প্রীতম সাহাকে নিয়ে যান।
তারা ট্্রাক চালক নাছিরকে ট্রাক থেকে নামিয়ে একটি অটোরিকশায় তোলে তার এক হাতে একটি এবং অটোরিকশার লোহার সাথে আরেকটি হাতকড়া লাগায়। তারা ট্রাকের সিটের নিচে পাওয়া ৩০ হাজার ইয়াবা নিয়ে যান। সেখানে তিনটি বড় পোটলায় ১০ হাজার করে এসব ইয়াবা রাখা ছিল। এ ছাড়াও তারা ট্রাকের সিসিটিভি ক্যামেরার মেমোরি কার্ড ফরম্যাট করে দেয় বলে চালক নাছির জানায়।
ইয়াবা উদ্ধারের এই ঘটনা থানায় অবহিত না করে উক্ত ৩০ হাজার ইয়াবা তারা লুট করে নিজেদের কাছে রেখে দেয়।
পরবর্তীতে এই ঘটনা স্থানীয় সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে ওঠে আসে। চালক নাছিরের অডিও — ভিডিও বক্তব্যসহ গতকাল ২৮ অক্টোবর সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। রাতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাসুদ আলম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ‘প্রশাসনিক কারণে’ এসআই এসএম মাহবুবুল ইসলাম এবং কনস্টেবল ফয়েজ আহমেদ ও গাজী মো. মহসিনকে প্রত্যাহার করা হলো।
———————
ছবির ক্যাপশন ঃ
রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশ কতৃক ট্্রাক থামানোর সিসিটিভি ছবি।
——————